,
সংবাদ শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে যা বলে গেলেন প্রধান বিচারপতি

সময় সংলাপ ডেস্ক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিমানবন্দরের উদ্দেশে তাঁর সরকারি বাসভবন ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি। আবার ফিরে আসব।

শুক্রবার রাত দশটার দিকে সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার আগে প্রধান বিচারপতি অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের হাতে দেন, যাতে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে’ বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন।

রাত ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি একটি কালো রঙের গাড়িতে করে কাকরাইলে তার সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে আসেন। গাড়িটি প্রধান ফটকের সামনে এলে প্রধান বিচারপতি নিজেই গাড়ি থেকে নামেন এবং ফটকের বাইরে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় গাড়ির ভেতরে তার স্ত্রী সুষমা সিনহা বসা ছিলেন। গাড়ি থেকে নামার পর দেড় মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। সাময়িকভাবে যাচ্ছি। আমি আবার ফিরে আসব। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার জন্য যাচ্ছি। সরকারকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি নিজেই তার স্বাক্ষরিত এক পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্য সরবরাহ করেন।

সবুজ কালিতে তার স্বাক্ষরিত বক্তব্যটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল-
‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানীং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, সরকারের একটা মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিমকোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধু রুটিনমাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে হঠাৎ ২ অক্টোবর থেকে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যান। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ৪০মিনিটে ভিআইপি লাউঞ্জ করিডোর হয়ে বোর্ডিং গেট-৪ ব্যবহার করে পাসপোর্ট চেকিং ইউনিট অতিক্রম করেন। এর আগে তিনি এয়ারলাইন্স কর্মীদের কাছ থেকে বোর্ডিং কার্ড সংগ্রহ করেন। এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটের ইকোনমি ক্লাসের ১১-কে ও নম্বর সিটে বসেন বিচারপতি।

রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন। সিঙ্গাপুর হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাবেন প্রধান বিচারপতি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রধান বিচারপতির বড় মেয়ে সূচনা সিনহা থাকেন।

এর আগে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে শুক্রবার রাতের ফ্লাইটের টিকেট কাটেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শুক্রবারই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। বিচারপতি সিনহা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে আগামী ১০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে যাওয়ার অনাপত্তিপত্র ও ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে আইনমন্ত্রণালয়।

এছাড়া বুধবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সরকারি আদেশের (জিও) অনুমতিপত্রে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইন সচিব জানান, প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনের সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সই করেন।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser