,
সংবাদ শিরোনাম :

সারের সহজলভ্যতা ও অবশিষ্ট পুষ্টি

সময় সংলাপ ডেস্ক

সারের সহজলভ্যতা ও অবশিষ্ট পুষ্টিঃ
ফসল উৎপাদনের জন্য মাটিতে প্রয়োগকৃত সার, মাটি- পানি- উদ্ভিদ প্রণালীতে, ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। কোন কোন রাসায়নিক সারের, (যেমন ফসফরাস, গন্ধক এবং জিংক) এর উল্লেখযোগ্য পরিমানের অবশিষ্ট পুষ্টি প্রভাব মাটিতে থেকে যায় এবং প্রয়োগকৃত সারের খুব সামান্য অংশ-ই এক মৌসুমে ফসল গ্রহণ করতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে, প্রতি ফসলে পূর্ণ মাত্রায় এসকল সারের প্রয়োগ সাশ্রয়ী হবে না।
এই সব বিবেচনা এবং মাটির বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের প্রেক্ষিতে শস্য বিন্যাস ভিত্তিক সার সুপারিশে নিম্ন বর্ণিত বিষয় সমূহ বিবেচনা করতে হবেঃ
১। নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে ইউরিয়া মাটিতে অত্যন্ত ক্ষনস্থায়ী এবং মৌসুম শেষে মাটিতে তা একবারেই অবশিষ্ট থাকে না বা সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। কাজেই উপাদানটি প্রতি ফসলের চাহিদা মাফিক গাছের আংগিক বৃদ্ধির ধাপে ধাপে ভাগ করে প্রয়োগ করতে হয়। সবুজ সার প্রয়োগের পর ( হেক্টর প্রতি ১২-১৫ টন সবুজ ধৈঞ্চা) ধান ফসলে নাইট্রোজেন সারের মাত্রা ২৫-৩০ কেজি/ হেক্টর কমানো যায়। শুঁটী জাতীয় দানা ফসলের পর যদি ফসলের পরিত্যক্ত অংশ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়, তাহলে নাইট্রেজেন সারের প্রয়োগ মাত্রা ৮-১০ কেজি/ হেঃ কমানো যায়।
২। মাটির অম্লমান বা পিএইচ কম বা বেশি উভয় ক্ষেত্রেই ফসফরাসের সহজলভ্যতা কম। সাধারণত ফসফরাসের লভ্যতার হার খুব কম ( ১৫-২০ %) এবং ফসফরাস সারের অবশিষ্ট পুষ্টি যথেষ্ট পরিমান মাটিতে থেকে যায়। এমতাবস্থায় ফসল বিন্যাসের ২য় ও ৩য় ফসলের জন্য ফসফরাসের প্রয়োগ মাত্রা নিম্নরূপঃ

ফসল বিন্যাসের ২য় ও ৩য় ফসলের ব্যবহারের জন্য সারের সুপারিশকৃত মাত্রার শতকরা অংশ
মৃদু অমস্ন থেকে মৃদু ক্ষার মাটির জন্য (%) অধিক অমস্ন এবং চুনযুক্ত মাটির জন্য (%)
ধান (উন্নত জাত) ধান (স্থানীয় উন্নত) , পাট ৫০-৬০ ৬০-৭০
গ্রীষ্মকালীন শাক- সব্জী ৬০-৭০ ১০০

৩। সাধারণত হালকা বুনটযুক্ত এবং পিডমন্ড মাটির পটাশ সরবরাহ ক্ষমতা কম। আবার, ধান, কন্দাল ফসল, পাট, আখ, বিভিন্ন ফল, সব্জী এবং মশলা জাতীয় ফসলে পটাশের চাহিদা বেশি। অন্যদিকে ফসলের অবশিষ্টাংশ জমিতে না রাখায় নিবিড় চাষ এলাকায় পটাশের ঘাটতি বেশি  হয়। গোলআলু, ভুট্টা, তামাক, আখ, সব্জী ও মশলা ফসলে উচ্চ মাত্রায় পটাশ সার প্রোয়োগ করায় পরবর্তী ফসলের মাত্রায় তা ৩০-৪০% কমানো যায়। হেক্টর প্রতি ২-৪ টন ফসলের অবশিষ্টাংশ / ধানের খড় যথাযথভাবে মাটিতে ব্যবহার করা হলে পরবর্তী ফসলের মাত্রায় ২০-৪০% পটাশ কমানো যায়। যেহেতু  খরিফ মৌসুমে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে তা ১০-১৫% কমানো যায়।
৪। শুষ্ক চাষাবাদে গন্ধকের সহজলভ্যতা কাদাময় ধান চাষের তুলনায় বেশী এবং যথেষ্ট অবশিষ্ট পুষ্টি মাটিতে থেকে যায়। কাদাময় চাষের ফসলে পূর্ণমাত্রায় সালফার প্রয়োগ করতে হবে। খরিফ-২ মৌসুমে কাদাময় ফসলের পর তৈল জাতীয় ফসল ,ভুট্টা, সব্জী ও মশলা ব্যতীত অন্যান্য শুস্ক চাষের ফসলের বেলায় সুপারিশকৃত মাত্রার ৫০% প্রয়োগ করতে হবে। তৈল জাতীয় ফসল, ভুট্টা, সব্জী এবং মশলা ফসলের বেলায় পূর্ণ মাত্রায় সালফার প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়।
৫। দস্তার প্রাপ্যতা চুনাময় এবং কাদাময় মাটিতে কম। চুনাময় মাটিতে ( এইজেড, ১০,১১,১২ ও ১৩) রবি ও খরিফ উভয় মৌসুমে দস্তা প্রয়োগ করতে হবে। ২ অথবা ৩টি ধান- ধান ফসল বিন্যাসের ১ম ফসলে পূর্ণ মাত্রায় এবং ২য় ও ৩য় ফসলে ৫০% মাত্রায় দস্তা প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টা, আলু, শাকসব্জী এবং মশলা ব্যতীত ধান- ধান ছাড়া অন্য ফসলের শস্য বিন্যাসের বেলায় শুধুমাত্র ধান ফসলেই দস্তা প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টা, আলু, সব্জী এবং মশলা ফসলে পূর্ণ মাত্রায় দস্তা প্রয়োগ করতে হবে।
৬। শস্য বিন্যাসের রবি মৌসুমে কোন জমি পতিত থাকলে খরিফ-১ মৌসুমে  ফসলের সুপারিশকৃত সারের পুরো মাত্রা প্রয়োগ করতে হবে।
৭। সবুজ সার/ শুটী জাতীয় দানা ফসল ব্যতিত মাঠ ফসলে জৈব উৎসের পুষ্টির যথাঃ গোবর, খামারজাত সার, মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোষ্ট ইত্যাদি প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সারের সুপারিশ মাত্রার কিছু পরিমাণ সার কমানো যায়।
৮। শীম জাতীয় ফসলে জীবানু সার ব্যবহার করলে নাইট্রেজেন সার প্রয়োগের প্রয়োজন নাই।
৯। বোরো ধানের জমিতে যদি পুরো দুই স্তরে এ্যাজোলা মিশানো হয় তবে ২৫-৩০ % নাইট্রেজেন সার কমানো যায়।
১০। বৃষ্টি নির্ভর ফসলের জন্য সেচ নির্ভর ফসলের সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে ২৫-৩০% পুষ্টি উপাদানের (N P K S ইত্যাদি) পরিমাণ কমানো যেতে পারে।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser