,
সংবাদ শিরোনাম :

অনলাইনের মাধ্যমেই এখন বুক করা যাচ্ছে ঘর। যৌন ব্যবসার ক্ষেত্রেও এভাবেই কাজ চালাচ্ছে…পড়ুন পুরো ঘটনা

সময় সংলাপ ডেস্ক

ইন্টারনেটেই খোঁজ মিলছে- যদিও পুলিশের কাছে খবর, এখনও শহরের কিছু হোটেল কয়েক ঘণ্টা থাকার জন্য ঘর ভাড়া দিতে আপত্তি করে না। সেই সুযোগ নিয়ে হোটেল গুলিতে গোপনে যৌন ব্যবসাও চালানোর চেষ্টা হয়।

কয়েক ঘণ্টা একসঙ্গে কাটানোর ইচ্ছা। বিলাসবহুল বাতানুকূল ঘরে একটু ঘনিষ্ঠ হওয়া দু’জনে। তার জন্য কলকাতার বাইরে না গেলেও চলবে। হাতের কাছে ল্যাপটপ থাকলে ভাল। না হলে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল আছেই।

নেট অন করে অনলাইনে পেয়ে যাবেন শহরের গেস্ট হাউস অথবা হোটেলের খোঁজ। কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ঘরের রেট। লেখা থাকবে ২৪ ঘণ্টার জন্য আপনি ঘর ভাড়া নিতে পারেন। তা লেখা থাকলেও অসুবিধা নেই।

ঘণ্টা কয়েক দু’জনে নিভৃতে কাটানোর জন্য অনলাইনে বুক করে দিন। তার পর সময় মতো পৌঁছে যান সেই হোটেল বা গেস্ট হাউসে। এভাবেই শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে ঘটেছে নানা অপরাধ।

এমনকী, হোটেলের ঘর ভাড়া নিয়ে যৌন ব্যবসাও শহরে নতুন কিছু নয়। তবে পুলিশের কড়াকড়িতে এই কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করা হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন পরিষেবা। কারণ অনলাইনের মাধ্যমেই এখন বুক করা যাচ্ছে ঘর। যৌন ব্যবসার ক্ষেত্রেও এভাবেই কাজ চালাচ্ছে দালালরাও।

এভাবেই রবিবার চেতলার গেস্ট হাউসের একটি বিলাসবহুল ঘর অনলাইনে বুক করেন হাওড়ার তরুণ মহম্মদ মইজ আলি। তাঁর সঙ্গে ছিল বান্ধবী মেঘা ভজক। যে গেস্ট হাউসটি তাঁরা বুক করেন, নেট সার্চ করলেই সেই গেস্ট হাউসের বিবরণ চোখের সামনে চলে আসে।

দেখানো হয়, ওই গেস্ট হাউসের চারটি তলায় রয়েছে মোট ১৬টি ঘর। ঘর গুলির ছবিও দেখানো হয়। সেই মতো অনলাইনেই পছন্দ করা যায় ঘর গুলি। এরপরই ওই গেস্ট হাউসটিতে আসেন ওই তরুণ-তরণী।

কিন্তু ঘণ্টা খানেক পরই চারতলার বিলাসবহুল রুম থেকে বেরিয়ে ছোটাছুটি করতে শুরু করেন ম্যানেজমেন্টের ছাত্র ওই তরুণ।

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর সঙ্গিনী। তিনিও ম্যানেজমেন্টের ছাত্রী। তরুণই ক্যাব ডেকে সঙ্গিনীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতাল তরুণীকে ভর্তি করতে চায়নি। এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তরুণীকে মৃত বলেই ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের ধারণা, রাজা সন্তোষ রায় রোডে গেস্ট হাউসটির ঘরের ভিতরেই রহস্যজনক ভাবে মৃ্ত্যু হয়েছে ওই তরুণীর। প্রাথমিক ভাবে তরুণীর যৌনাঙ্গে মিলেছে আঘাতের চিহ্ন। সঙ্গী মহম্মদ মইজ আলি জানান, বান্ধবীর সঙ্গে শারীরিক মিলনের সময়ই এই ঘটনাটি ঘটে।

যদিও রহস্য কাটেনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ওই তরুণকে টানা জেরা করে ঘটনা যাচাই করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেস্ট হাউসটি একেবারে পাড়ার মধ্যে। প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ একসঙ্গে ভিতরে ঢুকছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই যে বেশিদিনের জন্য, এমনকী, রাতও কাটান এমন হয় না।

অনেকেই দিনের কিছু সময় বা কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে ফের বেরিয়ে যান বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। গেস্ট হাউসে যে তরুণীর মৃত্যু হয়েছে, তিনি ও তাঁর বন্ধু দুপুরে এলেও সারারাত কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে আসেননি বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তাই এই ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও গেস্ট হাউসের মতে, কর্তৃপক্ষর জানার কথা নয়, অতিথি বা আবাসিকরা কতক্ষণ থাকবেন।

কারণ বুকিং হয় ২৪ ঘণ্টার জন্য। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ একসঙ্গে কোনও ঘর বুক করলে কর্তৃপক্ষর আপত্তি হওয়ার কারণও নেই।

যদিও পুলিশের কাছে খবর, এখনও শহরের কিছু হোটেল কয়েক ঘণ্টা থাকার জন্য ঘর ভাড়া দিতে আপত্তি করে না। সেই সুযোগ নিয়ে হোটেল গুলিতে গোপনে যৌন ব্যবসাও চালানোর চেষ্টা হয়।

আবার অনলাইনে ঘর বুক করেও যৌন ব্যবসা চালানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। তাই শহরের হোটেল গুলির উপর আরও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser