,
সংবাদ শিরোনাম :

গল্প– আমিতো ভালোবেসে ছিলাম

সময় সংলাপ ডেস্ক

গল্প– আমিতো ভালোবেসে ছিলাম “
লিখা– মেঘ “
ডেডিকেটেড — মায়াবী মায়া “
________
প্রান্ত– জামাই আমার তো পা কাঁপছে!
মেঘ– তুমি আমার বুকে হাত দিয়ে দেখো কিরাম শব্দ হচ্ছে!
প্রান্ত– জামাই আজকে না গেলে হয়না??
মেঘ– শশুর!! আজকে যেতেই হবে! আর কোন কথা নেই! মেয়ে আমার ফেইসবুকের বন্ধু…
প্রান্ত– আরে আজকালকার মেয়েরা হেব্বি চিজ! পরে ঝামেলা হতে পারে!
— উফফ তুমি এত দুশ্চিন্তা কেন করতেছো! আমার মনে হয় কিছুই হবেনা! আর মায়া রাষ্ট্রবিজ্ঞাব বিভাগের ছাত্রী!
— তাহলে এখানে ডাকলো কেন? আর মেঘ শহরের মেয়েরা কিন্তু নির্লজ্জ হয়!
— শুনো শশুর! আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর ফারিয়া মেয়েটা কেমন একদম সাদামাটা তো? তাহলে মায়া যে চঞ্চল হবে তার কি মানে??
— তোমার সাথে কথা পারবোনা তার চেয়ে চলো অপেক্ষা করি…
—-
দুজন কথা কাটাকাটি করতে করতে ঐ পাশ টাতে যেয়ে বসলাম.. হেল্কা ঘাম হচ্ছে আমার! কারন মেয়েদের সাথে দেখা করা আমার সারাজীবন এলার্জী! মায়া আমাকে এমন ভাবে বলল যেন দেখা করতেই হবে! অবাক বেপার মায়া আমার ফ্যান পেজে ছিল! আই, ডি তে থাকলে বুঝেযেতো আমি কে! তার ধারণা আমি সেরা লেখক! আমার গল্পগুলো অনেক সুন্দর হয়! আর গল্পের মাঝে কি যেন খুজে পায়!! অদ্ভুত তাই বলে লেখক কে খুঁজে বেড় করতে হবে কেন?? দেখা যাবে আমাকে কি না কি বলে শোনাবে তখন….
—-
প্রান্ত– জামাই কই তোমার মায়া??
মেঘ– শশুর!! মায়া আমার হবে কেন?? তোমাকে না বলেছি শুধুই ফ্রেন্ডস!! আমি ফ্রেন্ডস মনে করিনা! কিন্তু মেয়ে আমাকে ছারেনা! তাই বাধ্য হয়ে আসতে হল!!
প্রান্ত– বাদ দাও!! ক্লাসে যাবেনা?? ১০ মিনিট পর অর্থনীতি ক্লাস আছে!!
মেঘ– এই স্যারের ক্লাস করতে আমার কেমন যেন লাগে!! স্যার আমার দিকে এমন ভাবে তাকাই যেন আমি অদ্ভুত প্রাণী!!
— আরে উনি আমার দিকেও এভাবেই তাকাই!! ব্যাপার নাহ চলো ক্লাসে যাব উঠো
— হ্যা মেয়ে আর আসবেনা!! মেয়েটা কোপাল পুরালো মানে আর কোনদিন চাইলেও দেখা করতে পারবেনা…..
—–
কিছুদিন পর মেয়েটি আবার ফেইসবুকে নক করলো…..↓↓
মায়া— এই ছেলে? তুমি একা কেন আসোনি?? সেদিন আরেক টা ছেলের সাথে গেছিলে??
আমি– চুপ
মায়া– একা গেলে আমি ঠি’কি দেখা করতাম বুঝেছো??
আমি– চুপ!
মায়া– কি কথা বলছো না কেন?? নাকি অন্য মেয়ে জুটিয়েছ এর মাঝে??
আমি– আমি বাজে মেয়েদের সাথে কথা বলিনা!! বলেই ব্যান দিলাম!! কারন একটা মেয়ের মন জুরে যদি সবসময় প্রেম/ভালোবাসা/বিয়ে- এসব থাকে আমি তাকে সাইকো বলি!! অথবা সিক! কারন সবকিছু কিন্তু এই রিলেশন দিয়েই শেষ হয়না!!
—-
পরে প্রান্ত কে খুলে বলাতে প্রান্ত বলল- আমি চাইনা কোন মেয়ের জন্য আমার বন্ধুত্ব নষ্ট হোক!!
আমি– শুন আমি মনেমনে এই নারী জাতীকে ভালোভাবে দেখিনা!! তাই কোন মেয়েকে আমি আমাদের ভেতর দেখতে চাইনা!! বাদ দাও- সেই বই টা শেষ করলে এখন কাহিনী খুলে বলো শুনি….
—-
তারপর মেয়েটিকে আমরা ভুলেই যায়– প্রতিদিন ক্লাস করা! ক্যাম্পাসে বসে দুজন গল্প করা! বাসে চেপে বাসায় আসা এই আমাদের রুটিন!! প্রান্ত আর আমার মিল কারন আমার দুইজনি ডিটেক্টর সেটা নিজেরাই ভাবি… কারন ছোটখাটো রহস্য আমরা বেড় করতে পাড়ি!! প্রান্ত ছাড়া আমি অন্যকারো সাথে মিশিনা!! এজন্য অনেক স্যার আমাদের চেনেন!! বিশেষ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্যার বলেন আমরা তার বিভাগে হলে ভাল হতো!! যদিও আমাদের ইচ্ছা ছিল বি,বি,এ থেকে অনার্স করা কিন্তু এখন অর্থনীতি থেকে করতে হচ্ছে!! প্রান্ত ভাল ঝালমুড়ি খেতে ভালোবাসে আর ঝাল বেশি… আমিও তবে ঝাল খুবি কম! কারন ঝাল আমি খেতে পারিনা কোন কালেই….
—–
যেদিন প্রান্ত ভার্সিটি তে যায়না! সেদিন আমিও নাহ!! আসলে একাএকা কিছুই হবেনা তাই আর যায়না!! প্রান্তও সেইম! একদিন দুজন বসে চা খাচ্ছি তখন সামনে এলো একটা মেয়ে—-↓↓
মেয়ে– এখানে মেঘ কে?? আমি মায়া…
আমরা দুজন ভাল করে মায়ার দিকে তাকালাম! কারন মেয়েটিকে দেখে আমার ডিটেক্টিভিটি পূর্ণতা পাক! তারপর দুজন খাতা কলম বের করে যারযার মতো লিখতে লাগলাম…
মেয়েটা রাগ দেখিয়ে– তোমাদের ভেতর মেঘ কে??
প্রান্ত বলল– আমি মেঘ কেন?
মায়া– সেদিনের জন্য স্যরি..
আমি তখনো লিখছি! এবার মেয়েটির দিকে তাকালাম… সুন্দর আছে!! টানাটানা চোখ মুখে লাবন্যতা দৃষ্টিতে যৌবনের উরাউরি! একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকালো…
মায়া– আর আপনার নাম কি?
প্রান্ত– ওর নাম কাব্য.. তুমি কিছু বলবে আমাদের??
মায়া– আপনাদের নাহ! আপনাকে বলবো!!
প্রান্ত– তুমি আপনি করে বলছো কেন??
আমি– দ্বিধা… ( প্রান্ত আমার চোখের দিকে তাকালো)
মায়া– মানে আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান ভাইয়া!!
আমি– আসলে মেঘ লিখতে ভালোবাসে! আর সেটা মানুষের উপকারের জন্য!! বিখ্যাত হয়ে ফ্যানের বাতাস খেয়ে সেলিব্রেটি হবার জন্য নাহ!! তুমি এখন আসতে পারো….
প্রান্ত– জ্বী এখন আমরা একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলবো তুমি আজকে আসো….
@মায়া মুখটা কালো আর ছোট করে চলে গেলো!! যেন আশাভঙ্গ হল…
–;–
প্রান্ত– আচ্ছা এখানে কি কি পেলে??
আমি— আমি পেলাম!! মেয়েটির চোখের নিচে কালো!! তারমানে গতকিছুদিন ঘুমাইনি!! আর কথা বলার সময় গলা কাপছিল!! তার মানে হয়তো কখনো ছেলেদের সামনে কথা বলার অভ্যাস নেই! অথবা আমাদের সামনে শঙ্কিত হচ্ছিল!! তাছাড়া দেখেছি মেয়েটি কথা বলার সময় হাত দিয়ে উরনা চেপে ধরেছিল শক্ত করে- মানে একটা চাপাখুশি আর হাল্কা ভয় ছিল মনে!!
প্রান্ত– হুম!! মেয়েটি প্রচুর আবেগী!! আজব ব্যাপার মেয়েটি অনার্স পড়ে এখনো আবেগ কাটলো নাহ! বাড়ির আদরের মেয়ে! কখনো কিচেনে যায়নি! মোবাইল ইউজ করে খুব কারন মেয়েটির আঙ্গুল লাল ছিল হাল্কা!!
আমি– শশুর– আবেগ কি জীবনে দরকার নেই??
— নাহ নেই!! আবেগ থাকলে ভালোবাসা পাতলা হয়ে যায়!
— তাহলে ঘনিভূত করতে কি লাগবে??
— সেটা আজ নয়!! অন্যদিন বলবো!!
— আর তুমি তোমার পিক গুলো হাইড করে রাখো! তাতে ভাল হবে! না হলে ঝামেলা হবে সামনে!
— ঠিক বলেছ!
——
এরমাঝে আমার আম্মু অসুস্থ হবার কারনে ৮ দিন ক্লাসে যেতে পারিনি!! আর প্রান্ত ওর টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত ছিলো!! রাতে প্রান্ত কে বললাম আগামীকাল ক্লাসে যেতে! প্রান্ত শুনে হ্যা বলে দিলো ____
বসে আছি দুজন মাঠের কাছাকাছি! এক মেয়ে এসে বললোঃ আপনাদের ভেতর মেঘ কে??
আমি– কেন বলুন তো!!
মেয়ে– এই চিরকুট টা মেঘ ভাইয়ার!
প্রান্ত- কে পাঠিয়েছে?? মেয়েটার নাম কি??
মেয়ে– স্যরি ভাইয়া বলা যাবেনা! আমি আসি…

দুজন চিঠিটার দিকে ভালকরে তাকালাম!! তারপর আমি শুরু করলামঃ
আমি— চিঠিটা লিখার সময় লেখিকা! খুব চিন্তিত ছিল! আর চিঠিতে হাল্কা কান্নার পানি মুচে গেলেও দাগ শুকাইনি!
প্রান্ত– লেখিকা দ্বিধায় ছিলো! কারন মাঝে দুইটা অক্ষরে বেশ টেনেটেনে লিখা!! একবার ভেবেছে লিখি অন্যবার নাহ!!
আমি– আর এজন্য নিজে দিতে লজ্জায় বা শঙ্কায় আসেনি!!
প্রান্ত– আমিতো ভালোবেসেছিলাম “ এর মানে কি জামাই??
আমি– মানে মেয়েটি আমাকে অনেক আগেই ভালবাসে!! ফেবুতে ব্যান আর সামনাসামনি তারিয়ে দেয়াতে বেচারি কষ্ট পেয়েছেন…
প্রান্ত– আমরা কিন্তু মেয়েটির উপকার করেছি…
আমি– কি রকম??
প্রান্ত– আবেগ কিন্তু কেটে গেছে! আর মেয়ে কখনওই আবেগ থেকে কাউকে প্রপোজ করবেনা!
আমি– হুম মেনেনিলাম! লেখক দের আবেগ থাকতে নেই!! তাতে পাঠিকার জন্য কষ্ট হলেও লাভ!
প্রান্ত– ডেটেক্টিভিটিতে তোমার অবস্থান আশানুরূপ!!
আমি– চলো আমাদের নেক্সট প্লান নিয়ে কাজ করি!!
প্রান্ত– এবার কিন্তু আমি গল্পের নায়ক হবো…..
আমি– হ্যা আমার শাশুড়ি আম্মু তো নায়িকা….
____
আমি কিন্তু মায়ার আবেগ কে প্রশ্চয় দেইনি!! কারন আমি মাত্র অনার্স ভর্তি হয়েছি!! এখানে সেইম ইয়ারে লাভ!! জানি কিছুদিন খুব ভাল কাটবে!! একদিন মেয়ে এসে বলবে আমাকে বিয়ে করো না হয় হারাবে!! আমি না বিয়ে করতে পারব না থাকতে পারব? তাই প্রেম যদি করতেই হয় নিজের বউয়ের সাথে করব… তাহলে আর হারানোর ভয় থাকবেনা….
—-
ভালোবেসে যদি পূর্ণতা বিয়ে দিয়ে শেষ করতে না পারি তাহলে সেই প্রেম করার কোন মানেই হয়না!! আর যখন দেখবেন মেয়েটির জন্য আপনার কান্না পাচ্ছে বুঝবেন সেটা আবেগ!! আর যদি দেখেন আপনার কষ্ট হচ্ছে সেটা ভালোলাগা!! আর ভালোবাসা হচ্ছে বিয়ের পর হয়!!

সো ভাল থাকুন!! সুস্থ থাকুন মেঘ এর পাশেই থাকুন !!
→→↓↓
মেঘ ভাইয়ার গল্প
________মেঘ_______


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser