,
সংবাদ শিরোনাম :

‘অভিমানের গল্প’

সময় সংলাপ ডেস্ক

‘অভিমানের গল্প’

(কমা)

অফিস থেকে ফিরেছি প্রায় পনেরো মিনিট হলো।কলিংবেল চেপেই যাচ্ছি তো চেপেই যাচ্ছি।দরজা খোলার কোনো লক্ষণই নেই।মরলো নাকি ও ভেতরে!মেজাজটা পুরোই গরম হয়ে আছে।দিলাম ফোন।একি! নিহার ফোন সুইচ অফ বলছে কেন? আবার কোনো কান্ড করে বসেনি ত! গতকাল রাতে তো ওর সাথে তেমন একটা কথা বার্তা হয়নি।আর প্রয়োজন ছাড়া তো ওর সাথে কথাই বলিনা।তাই বলে কি রাগ করবে! কিংবা দরজা বন্ধ করে বসে থাকবে।এ কেমন কথা!আরো জোরে জোরে দুটো কিল দিলাম দরজায়।পাশের ফ্ল্যাটের নিশু ভাবী ওনাদের দরজা খুলে আমাকে দেখে দাঁড়াতে বলে উনি ভেতরে চলে গেলেন।ফিরলেন আমাদের বাসার চাবিটা নিয়ে।

-উফ্,স্যরি মাহিম আমি রান্না ঘরে ছিলাম তাই বুঝতে পারিনি তুই এসেছিস।আর হ্যাঁ,আমিতো ভূলেই গেছিলাম যে তোদের বাসার চাবিটা আমার কাছে।

-নিশু ভাবী,এটা তুমি পেলে কোথায়? আর নিহা কি বাসায় নেই নাকি? ওর ফোনটাও সুইচ অফ বলছে!

-নিহা তো ঘন্টাখানেক আগে বেরুলো।আর আমাকে চাবিটা দিয়ে বলে গেলো তুই এলে দিতে আর হ্যাঁ,তোর জন্যে রান্না করে গেছে বোধহয়!

-কোথায় গেছে তোমাকে কিছু বলেছে?

-না তো! কেন,তোদের মাঝে কিছু হলো নাকি?

-না,আমার তো মনে পড়ে না।আমি তো গতকাল রাতে টায়ার্ড থাকায় না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।ও তখন কি যেন লিখছিলো।শুয়েই ঘুম।ও আমাকে ডেকেছিলো কি না আমার খেয়াল নেই।সকালে তো আমি ব্রেকফাষ্ট করেই বেরিয়ে গেছি।কিছু তো অস্বাভাবিক লাগেনি তখন!

-মাহিম,তুই তাহলে পরিচিত দের খোঁজ নিয়ে দেখ।কোনো কাজে কোথাও গেছে হয়তো!

-কোথায় ই বা যাবে!

-আচ্ছা,আমার চুলোয় ভাত রেখে এসেছি,আমি গেলাম আমাকে পরে জানাস তো।

(সেমিকোলন)

দরজা খুলে ভেতরে ডুকলাম।সবকিছু আগের মতোই গুছানো মনে হলো।মেয়েদের রাগ হলে তো অনেকে জিনিসপাতির উপর ও রাগ ঝাড়ে তাই উৎসুক চোখে সেটিই অনুসন্ধান করতে থাকলাম।না,তেমন কোনো ক্লু পেলাম না।আমি আমার মতো ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম।এমনিতেই অনেক ক্লান্ত।দিলাম ঘুম।সন্ধ্যা হয়ে গেলো নিহা ফিরলো না।আসলে,ও থাকলে খাবার টেবিলে এক কাপ কফি থাকতো।সেটা খোঁজ করতে গিয়েই ওর কথা মনে পড়লো।একে একে সব জায়গায় ফোন দিলাম।কোথাও যায়নি।শ্বাশুড়ি আম্মারা আসতে চাইলেন।মানা করে দিলাম।ওনারা শহরতলীতে থাকেন।ওনাদের ধৈর্য্যহারা না হতে আশ্বাস দিয়ে আমি ভাবতে বসলাম কোথায় যেতে পারে মেয়েটা মানে আমার বউটা।ওর এক বান্ধবী প্রায় ওর সাথে ফোনে যোগাযোগ করতো।ওদের চার বছরের বাচ্চাটার সাথে নিহা খুব হাসিখুশি আচরণ করতো।ফোনে দুষ্টুমি করতো।কিন্তু ওর বান্ধবীর নাম্বার তো আমার কাছে নেই।আর যে দুইবার বাসায় এসেছিলো।তেমন করে কথাবার্তা বলা হয়নি।শুধু কেমন আছেন? ভালো আছি এ পর্যন্ত।তবে কি ওদের বাসায়ই? কিন্তু ওদের ঠিকানাটাও তো জানিনা।সাংঘাতিক রকমের সমস্যা জুড়ে গেলো তো! হঠাৎ করেই খেয়াল হলো গতকাল রাতের কথা।নিহাতো আমার টেবিলে বসেই কি যেন লিখছিলো।আর ও এমন কিই বা লিখবে আমার টেবিলের ওখানে।দৌড়ে গেলাম।খাতাটা আধখোলা।লিখা শেষে কলমের ক্যাপটাও লাগায় নি।অর্ধেক পৃষ্ঠা জুড়ে সুন্দর হাতের লেখায় লিখা ছিলো:

স্যার,আমায় ক্ষমা করবেন এভাবে আপনাকে না জানিয়ে চলে যাওয়াতে।কিছু করার ছিলোনা এছাড়া।আপ্নি নিশ্চয়ই এটা না ভেবে থাকবেন না যে,আমার অন্য কোনো পুরুষের সাথে মেলামেশা ছিলো নাহয় আমি কেন চলে গেলাম।আপনার ডায়েরীর পাতাগুলো জুড়ে যে স্বপ্নকন্যার বিচরণ ছিলো তেমনি আমারও একজন স্বপ্নপুরুষ ছিলো।তার সাথে আমার প্রণয় ছিলো খুবই সাধাসিধে।আমাদের মধ্যে ভালোবাসাটা ছিলো খুবই পবিত্র ঠিক আপনারটার মতো।যা বর্তমান যুগে বিরল।আপনার ডায়েরী থেকে জানা মতে আপনি যেমন আপনার মায়ের পছন্দ কে প্রাধান্য দিয়ে আমায় বিয়ে করেছেন এবং নিজের পছন্দের জনকে করেছেন পর।ঠিক তারই অনুরুপ আমিও আমার বাবার মুখের হাসি ও সম্মান রক্ষার্থে আপনার সাথে বিবাহের জন্য �রাজি হয়েছিলাম।এটা ভাববেন না যে আপনার উপর দয়া করে আমি এমনটা করেছি কিংবা আমার প্রাক্তনকে কষ্ট দিতে করেছি।তার উপর আমার ষোলো আনা বিশ্বাস এখনো আছে যে,সে আমায় নিয়ে এখন আর হতাশ নয়।কারণ,আমাদের পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে নিজেদের উৎসর্গ করাটাও প্রধান লক্ষ্য ছিলো।আমাদের প্রেমে কোনো প্রতিযোগিতা ছিলোনা এখনকার আধিখ্যেতা প্রেমগুলোর মতো।তাকে ভেবে আমি কষ্ট পাই ঠিকই কিন্তু আমার আপনাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো।ভাবতাম অতীতে যদি ভূল করে থাকি তার সমাধান দেবে আমাদের সংসার।দুজনে খুব কাছাকাছি থাকবো পেছনকে দূরে ঠেলে।কিন্তু আজো আপনি আমাকে মনের মতো মেনে নিতে পারেন নি।আপনি আমার সাথে ঠিক করে কথাও বলেন না।আমি সারাদিন একা থাকি আমার নিঃসঙ্গতাকে আপনি আরো গভীর করে তুলেছেন।হয়তো আমার সাথে থাকতে আপনার বিরক্তি লাগে।তাই চলে গেলাম।প্রয়োজন হলে খুঁজে নিবেন।আমি আপনার অপেক্ষায় আশেপাশে ছায়া হয়েই থাকবো।
‘নিহা’

(দাঁড়ি)

চিন্তায় পড়ে গেলাম ভীষণ রকমের।আমার ডায়েরীটা ও তাহলে পুরো পড়ে নিয়েছে!এত কিছু জানা সত্ত্বেও কোনো একটুও কিছু বলেনি।আমার প্রাক্তন মিমির আমার আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে।হয়তো পরিবার নিয়ে ভালোই আছে।কিন্তু নিহা যা পড়েছে তা তো শুধুই খায়েশ মিটানোর জন্য লিখা লিখি করি।সব সত্য না।আমাদের অপূর্ণ গল্পটাকে আমি পূর্ণতা দেইনি।প্রতিদিন কয়েকলাইন লিখে যাই।যাইহোক,বউয়ের উপর খুব বেশীই আচরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।আমার অবশ্যই ওকে সময় দেয়া দরকার ছিলো।ওর বাবা মা পাশে নেই আমাকে ভরসা করেই বাকী জীবন কাটবে ওর।কিন্তু আমি ওকে বুঝতে পারিনি।আমি সবসময় পিছিয়ে থাকি এভাবেই।নিহাকে খুঁজে বের করে স্যরি বলতে হবে।এতদিনের পুষে রাখা অভিমানের গানটা সে যেহেতু গেয়েছে তাই আমাদের দুজনকেই সেটা শেষ পর্যন্ত গেয়ে যেতে হবে।কিন্তু ওকে কই পাই? চিঠিতে তো লেখা আশে পাশেই নাকি আছে।তারমানে নিশু ভাবীদের ওখানে নয়তো! গিয়ে দেখি নিশু ভাবীদের দরজা বন্ধ।বাইরের বেলকনিতে খুঁজতে যাবো এমন সময় দেখলাম উপরের তলায় ছাদের ঘরের দরজা খোলা।তারমানে ওখানে! আস্তে আস্তে গেলাম।ওমা! একি দেখছি। আমার বউ নিহা আর নিশু ভাবী হাসাহাসিতে ব্যস্ত।তারমানে নিহা যায়নি।আমাকে শুধুই বোকা বানিয়েছে! নিশু ভাবী সব জেনেও আমাকে বলেনি।খুব রাগ হচ্ছে আবার হাসিও পাচ্ছে।আস্তে করে দরজাটা টেনে দিলাম।যেই দরজার ছিটকিনি এপাশ থেকে লাগিয়ে দিলাম,ওরা দুজন ভয় পেয়ে গেলো! দুজন একবারে ভয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে।কন্ঠস্বর পাল্টে তাদের ভয় দেখাতে লাগলাম।সত্যি সত্যি এবার নিহা কেঁদে দিলো।তাড়াতাড়ি করে ছিটকিনি খুলে ছাদে গেলাম।ওকে কয়েকবার করে স্যরি বললাম ও।নিহা ফিক করে হেসে দিলো।আমি আর ভাবী দুজনেও হাসলাম।আমাদের অভিমানের পালা সারলো।এভাবেই আমরা অতীত পেছনে ফেলে আগামীতে এগিয়ে যেতে পথ বাড়ালাম।�

লিখা:আইল্সা পন্ডিত


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser