,
সংবাদ শিরোনাম :

জিটুজিতে চাল, গম কেনা নিয়ে দালালদের দাপট

সময় সংলাপ ডেস্ক

সরকার টু সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে চাল কেনা নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা (দালাল) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পোল্যান্ড, ইউক্রেন, রাশিয়ান ফেডারেশনসহ কয়েকটি দেশে রীতিমতো চষে বেড়াচ্ছেন এসব দালাল। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার কাগজ রয়েছে আমাদের কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) নিয়ে দালালরা পোল্যান্ড, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন দালালরা। ব্যবসা পাবেন এমন আশায় কোনো কোনো ব্যবসায়ী নামধারী এসব দালালরা ৫০ লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় এসব দালালের দাপটের কাছে অসহায়। খাদ্য অধিদপ্তরকে তোয়াক্কা করছেন না তারা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে চাল কেনার বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখভাল করে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারবো না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাল বা গম কিনতে দালালরা মাঝে মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এনিয়ে মিশন প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিরক্ত হচ্ছেন। কারণ জিটুজিতে চাল কিনতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি বা অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা। ঘটছে তার উল্টো। এদিকে বাংলাদেশ মিশনের মাঝারি সারির কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করে ওই সব ব্যবসায়ী নামধারী দালালরা নরম-গরম কথা বলছেন। কেউ কেউ নিজের অতীত পরিচয় দিতেও ছাড়ছেন না। এ কারণে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা বেশ সাবধানে কথা বলছেন। পাছে কোনো বিপদে পড়ে যান এমন আশঙ্কায় মিশনের কর্মকর্তারা আগ বাড়িয়ে কিছু বলছেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংকটের কারণে তাড়াহুড়ো করে পোল্যান্ড, রাশিয়ান ফেডারেশন ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি করতে চায় সরকার। এজন্য গত এপ্রিলে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পোল্যান্ড সফর করে। খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের এ টিমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশাপাশি কয়েকজন ব্যবসায়ীও ছিলেন। যারা নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। ওই টিমে থাকা খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, পোল্যান্ডে গম কিনতে দেশটিতে যান খাদ্যমন্ত্রী। তবে দেশটিতে গিয়ে ব্যবসায়ী নামধারী দালালদের সঙ্গে সরকারি টিমের সময় কেটেছে। এ সফরে বাংলাদেশ মিশন কিছুই করেনি। শুধু তারা প্রটোকলের কাজ করেছে। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চেষ্টায় পোল্যান্ড সরকারের তালিকাভুক্ত হয়েছে ওই ব্যবসায়ী নামধারী দালালটি। এছাড়া একই ব্যবসায়ী ইউক্রেনের সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাশিয়ান ফেডারেশন হতে দেশটির মনোনীত প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ টন গম কেনার চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। রাশিয়ান ফেডারেশনের মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের এক অখ্যাত ব্যবসায়ীর সম্পর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে প্রতি টন ২৫২ ডলার দরে দুই লাখ টন গম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ জন্য সরকারের লাগছে ৪১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ক্রয় কমিটিতে উপস্থাপন করা সারসংক্ষেপ সূত্রে জানা গেছে, জিটুজি পদ্ধতিতে গম আমদানি করতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) রয়েছে। ওই এমওইউ’র মাধ্যমে গম কেনা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চালের জন্য মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভারত ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে ঘুরে চাল কিনতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। অথচ উল্টো গত ৯ই মে রাশিয়ান ফেডারেশনের মনোনীত প্রতিষ্ঠান জেএসসি পোডিনট্রগ গম সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির ভিত্তিতে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ২০ ও ২১শে আগস্ট রাশিয়ার চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। তারা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিটিং করে। ওই মিটিংয়ে জিটুজি পদ্ধতিতে গম আমদানির চুক্তিনামার শর্ত এবং মূল্য নিয়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন হয়। আলোচনা ও নেগোসিয়েশন শেষে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে দুই লাখ টন গম প্রতি টন ২৫২ ডলার দরে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এগ্রিড মিনিটস অফ দ্য মিটিং স্বাক্ষরিত হয়। এরই মধ্যে জিটুজিতে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে গম আমদানি করতে চুক্তি হয়েছে। সহসাই গম দেশে এসে পৌঁছাবে বলে মনে করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser