,
সংবাদ শিরোনাম :

বেকায়দায় আওয়ামী লীগ টেনশনমুক্ত বিএনপি

সময় সংলাপ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের কুষ্টিয়া-৪ নির্বাচনী আসনটি গঠিত খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা নিয়ে। এখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চরম বেকায়দায় আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আবদুর রউফ। এর জেরে সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এমপি আবদুর রউফের সদস্য পদ বাতিলের জন্য শোকজ করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। অপরদিকে টেনশনমুক্ত গণসংযোগ করছেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। নিবন্ধন বাতিলকৃত দল জামায়াত এ আসনে তাদের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইনকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে। প্রায় ১২ হাজার ভোটের মালিক জামায়াত জোটের কাছে এ আসন দাবি করবে বলে একাধিক নেতাকর্মী মানবজমিনকে জানিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ থেকে রোকনুজ্জামান রোকন ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সুমন আশরাফ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৯৬ হাজার ৫ শ’ ১২। এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছে দলীয় কোন্দল। ২০০১ সালে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের সুলতানা তরুণ পরাজিত হন বলে অভিযোগ তার সমর্থকদের। তখন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বর্তমান এমপি আবদুর রউফ। তবে ২০০৮ সালে সুলতানা তরুণ জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবদুর রউফকে জিততে হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খানকে মোকাবিলা করে। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে চলছে চরম দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের জেরে সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এমপি আবদুর রউফের সদস্য পদ বাতিলের জন্য শোকজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কারণ দর্শানোর জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ২৫শে নভেম্বরের এ বর্ধিত সভায় কমিটির ৭১ জন সদস্যের মধ্যে ৬৯ জন উপস্থিত ছিলেন। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান এমপি আব্দুর রউফের বিপক্ষে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সদর উদ্দিন খান, সাবেক এমপি সুলতানা তরুণ, মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার, বর্ষীয়ান নেতা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সূফী ফারুক ইবনে আবু বকর (বর্তমান এমপির ভাগ্নে) ও খোকসা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিটু।
এক সময় কুষ্টিয়ার ৪টি আসনই ছিল বিএনপির দখলে। কিন্তু সে চিত্র এখন আর নেই। ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ হানা দেয় বিএনপির দুর্গে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট গঠনের পর জেলার ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেন। এরপর থেকেই এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়। বর্তমানে সরকারি দলের কোন্দলের সুযোগ নিয়ে আসন ফিরে পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন ২০দলীয় জোটের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার বিকল্প নেই। দলের সুসময় ও দুঃসময়ে তিনিই দলের হাল ধরে রেখেছেন।
কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম প্রামাণিক আনসারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তবে তিনি নীরব। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ইনু) থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন।
ভোটাররা জানান, আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে হলে এমপি আবদুর রউফকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে বশে আনতে হবে সাবেক এমপি বেগম সুলতানা তরুণ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খানকে। ২০০১ সালে নৌকার প্রার্থী সাবেক এমপি বেগম সুলতানা তরুণের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বর্তমান এমপি আবদুর রউফ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবদুর রউফের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান। কিন্তু এই দুজনকে ম্যানেজ করা তার পক্ষে কঠিনই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
ওদিকে সাবেক এমপি সুলতানা তরুণ আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। ভোটারদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন অতীতে তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। তখন উত্তরাধিকার সূত্রে এমপি হয়েছিলেন সাবেক এই এমপি। বেগম সুলতানা তরুণের শ্বশুর গোলাম কিবরিয়া ছিলেন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও বঙ্গবন্ধুর কাছের লোক। পরে তার ছেলে আবুল হোসেন তরুণ এমপি হন। তরুণের মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এ আসনে বিজয়ী হন তার স্ত্রী।
অপরদিকে বর্তমান ও সাবেক দুই এমপির মনোনয়ন প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সদর উদ্দিন খান। তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগও ভালো। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আশীর্বাদও রয়েছে তার ওপর। নির্বাচনী এলাকার খোকসা উপজেলার বাসিন্দা তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও জেলার সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী তাদের হারানো আসনটি ফিরে পেতে চান আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বর্তমান সরকারের সময়ে দলটির দুঃসময়ে তিনিই হাল ধরেছেন। সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। গত ৮ বছরে ৩ বার জেলে গেছেন। বর্তমানে ৬টা মামলা চলমান তার বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়াসহ খোকসা-কুমারখালীতে নেতাকর্মীদের নামে মামলার দেখভাল করছেন মেহেদী রুমী। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে তার নির্বাচনী এলাকাতেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য পদ নবায়নের কার্যক্রম জেলায় সব থেকে বেশি কার্যকর এখানে। কুষ্টিয়ায় থাকলে এই আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সপ্তাহের ৫/৬ দিন গণসংযোগ করছেন সাবেক এই এমপি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব বয়সী মানুষের দোয়া নিচ্ছেন।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser