,
সংবাদ শিরোনাম :

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা থাকছে না সংলাপ থেকে ৩১ সুপারিশ গ্রহণ ইসি’র

সময় সংলাপ ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিদ্যমান সংজ্ঞায় কোনো পরিবর্তন আনছে না নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি বাদ রেখেই নির্বাচনী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এরইমধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-আরপিও’র প্রায় এক ডজন অনুচ্ছেদে সংশোধনী আসছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে এসব আইন সংস্কারের সুপারিশ আসে। সংলাপে পাওয়া প্রায় চার শতাধিক সুপারিশের মধ্যে ৩১টি প্রস্তাব খসড়া আকারে আমলে নিচ্ছে ইসির আইন সংশোধন কমিটি। আজ কমিশনের ‘আইন-বিধি সংস্কার সংক্রান্ত’ কমিটির সভায় খসড়াটির ওপর পর্যালোচনা হবে। ইসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বতন্ত্র প্রার্থিতা শিথিল, অনলাইনে মনোনয়ন, ইভিএম-এর নতুন বিধান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আগেই ভোট নেয়ার ব্যবস্থা, পোলিং এজেন্টদের ইসির পরিচয়পত্র দেয়া, সমভোটপ্রাপ্ত লটারি প্রথা বাদ দিয়ে ভোট নেয়া, নির্বাচনী ব্যয় তদারকি ও অডিট করতে মনিটরিং কমিটি গঠন, ব্যয় বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানা ১ লাখ টাকা করা, অনিয়মে জড়িত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বদলি, অনিয়ম-পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে চোখ রাখতে তৃতীয় কাউকে রাখা, ভোটের অভিযোগ দাখিল-নিষ্পত্তি দ্রুত করতে বিশেষ সেন্টার করা। ইসি সূত্রে জানা গেছে এসব বিষয়ে প্রাথমিক সুপারিশ প্রস্তুত করছে ইসি সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত উপ-কমিটি। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের সভাপতিত্বে ‘আইন-বিধি সংস্কার সংক্রান্ত’ কমিটির সভায় খসড়াটি পর্যালোচনা করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির আইন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি, আরপিও অন্তত দুই ডজন অনুচ্ছেদে সংযোজন-বিয়োজন-সংশোধনের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। আরো পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় উপস্থাপনযোগ্য একটি খসড়া করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে রাখা যায় না বলেই কোনো সুপারিশও থাকছে না বলে জানান এ কর্মকর্তা। ইসি সূত্র জানায়, প্রাথমিক খসড়ায় ব্যক্তিগত ব্যয়ের কোনো সংজ্ঞা বা ধারণা না থাকায় নতুন করে তা সংযোজন হবে। কোনো কোনো জেলায় দু’জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে বলে আইন হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিতে তাদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলির সুপারিশ থাকছে আইনে। এছাড়া খসড়ায় উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, ২৫ দিন আগের স্থলে ভোটের ১৫ দিন আগে কেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা; তিনদিন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল উন্মুক্ত রাখা; ঋণখেলাপিদের জটিলতা কমাতে মনোনয়ন দাখিলের সাত দিন আগের পরিবর্তে দাখিলের আগের দিন তা পরিশোধের সুযোগ দেয়া; অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের বিধান যুক্ত করা; আইসিটি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ করা; স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১% এর পরিবর্তে ১০০০ ভোটার সমর্থন তালিকা জমার বিধান যোগ করা; প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করা; সার্টিফিকেট জমা দেয়ার পাশাপাশি মার্কশিট জমা দেয়ারও সুযোগ রাখা; মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান থাকায় করণিক ত্রুটি ঠিক করা; বিদ্যমান বিধানকে সহজ করতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী হলে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা; আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইভিএম ব্যবহারের জন্য নতুন বিধান সংশোধন করা; প্রার্থীদের সুবিধার্থে নির্ধারিত ফরমে পোলিং এজেন্ট নিয়োগে সংশোধন; রিটার্নিং অফিসারকে আইনত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও মালামাল সংবলিত ব্যাগ খুলে পুনঃনিরীক্ষার বাধ্যবাধকতা সংশোধন এবং এতে আরো দুটি অনুচ্ছেদ সংশোধনী আনতে হবে। নির্বাচনী ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখা ও অবৈধ প্রভাব রোধে মনিটরিং কমিটি গঠন করা ইত্যাদি।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser