,
সংবাদ শিরোনাম :

জানুয়ারিতেই পাবনা থেকে চলবে ট্রেন

সময় সংলাপ ডেস্ক

পাবনা শহর থেকে সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি পূরণ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। জানুয়ারিতেই পাবনা-রাজশাহী রুটে চালু হচ্ছে ট্রেন। আর এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পাবনাবাসী।

ঈশ্বরদী রেলপথে প্রথম পরীক্ষামুলক ট্রেন বৃহস্পতিবার সকালে পাবনা স্টেশনে এসে পৌঁছে। সকাল ১০ টায় ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বেলা পৌনে ১১ টায় পাবনা স্টেশনে পৌঁছে।

ট্রেনটি পাবনার বাইপাসে এসে পৌঁছলে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ একে স্বাগত জানায়। তারা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। আর পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো ট্রেনে আসা রেল কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান।

রেল কর্মকর্তারা জানান, ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা আসতে পরীক্ষামূলক ট্রেনেটির সময় লেগেছে ৪০ মিনিটের কিছু বেশি।

পাবনা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটু সময় বেশি লেগেছে, আশা করছি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেই পাবনা থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যাবে। প্রথম পর্যায়ে একটি শাটল ট্রেন পাবনা-ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে চলাচল করবে।’

সুবক্তগীন আরও জানান, ঈশ্বরদীর মাজগ্রাম থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার রেলপথ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাবনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ ও আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে আজ পরীক্ষামুলক ট্রেন চালানো হলো।

পাবনার মানুষের একশ বছররের দাবি ছিল এই রেলপথ। ১৯১৪ সালে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হলে সেই সময়ে দাবি উঠে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত একটি লিংক রোড রেললাইনের। সেই সময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার এই দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিও দেয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর পরে বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে সরকার পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের এ দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্প হাতে নেয়। সে সময় পাবনায় নদীকেন্দ্রীক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেলে স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা অরো শক্তিশালী করতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে এই রেলালাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনাবাসীর দাবি এ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির (একনেক) এর বৈঠকে এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে ব্যয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন।

পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে তিনটি থানার অল্প সংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser