,
সংবাদ শিরোনাম :

চট্টলার, এবিএম মহিউদ্দিন আর নেই

সময় সংলাপ ডেস্ক

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। বৃহসপতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গতকাল লালদীঘির মাঠে জানাজা শেষে নগরীর চশমাহিলস্থ পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় এই বীরমুক্তিযোদ্ধাকে। জনপ্রিয় এ নেতার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের নাগরিকজীবনে নেমে আসে শোকের ছায়া। আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট
মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব ওসমান গণি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করার সময় ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।এ সময় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রাত ৩টায় তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ নগরীর চশমাহিলস্থ নিজ বাসভবনে আনা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাসভবনে ছুটে যান সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ। আর এ নেতাকে এক নজর দেখতে দলীয় নেতাকর্মী ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ বাসভবনে ভিড় জমান। এ সময় চট্টলবীরের মরদেহ ঘিরে শুরু হয় স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গণকান্না।
এর আগে গত ১১ই নভেম্বর রাতে তিনি হার্টের সমস্যা ও কিডনি রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে নগরীর ম্যাক্স হাসাপাতালে ভর্তি হন। পর দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে এনে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৬ই নভেম্বর অসুস্থ মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে এনজিওগ্রাম সম্পন্নের পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রায় ১০ দিন পর গত ২৬শে নভেম্বর তিনি দেশে ফিরে পুনরায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।
সেখানে সিঙ্গাপুরের গ্ল্যানিগ্লেস হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে গত মঙ্গলবার নিজ জন্মস্থান চট্টগ্রাম ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মুহিবুল হাসান নওফেলকে গত বছর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন ব্যবসায়ী।
তার ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা ২০০৮ সালের ১৭ই অক্টোবর ক্যানসারে মারা যান। বাকি তিন মেয়ের মধ্যে জেবুন্নেসা চৌধুরী লিজা গৃহিণী। যমজ বোন নুসরাত শারমিন পিয়া ও ইসরাত শারমিন পাপিয়া মালয়েশিয়া থেকে এমবিএ করেছেন।
স্মৃতিচারণ করে নেতারা যা বললেন: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রিত্ব ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহিউদ্দিন ভাইকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলাম। এ ছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মহিউদ্দিন ভাই। কারণ একটাই তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে আসতে চাননি। ওবায়দুল কাদের বলেন, মহিউদ্দিন ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। চট্টগ্রাম হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা কাজ করে যাবো। তার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো। মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, বীর চট্টলার মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আজীবন মানুষকে ভালোবেসেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামবাসী অভিভাবক হারালো; যা কোনো দিনই পূরণীয় নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত। তিনি আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। নানা রোগ-ব্যাধিকে উপেক্ষা করে সব সময় গণমানুষের কাতারে ছিলেন। সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। জনগণের জন্য এমন নিবেদিত প্রাণ চট্টগ্রামে দ্বিতীয় আরেকজন নেই।
বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, রাজনীতিতে দলীয় কারণে অনেক সময় সত্য কথার ক্ষেত্রে দলীয় সীমারেখা অতিক্রম করা যায় না। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সেক্ষেত্রে বিপরীত। তিনি অনেক কঠিন সত্য কথা অবলীলায় মানুষের কাছে তুলে ধরার অসীম সাহস রাখতেন। তার চিন্তা ও মননে সব সময় বিরাজ করতো চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও অধিকার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গণমানুষের অধিকারের আদায়ে কাজ করে গেছেন। এমন নেতা চট্টগ্রামে আর নেই। তার মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এছাড়া ভূমি প্রতিমন্ত্রী মো. জাভেদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম শোক প্রকাশ করেছেন।
জানাজায় মানুষের ঢল: মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় মানুষের ঢল নামে। নগরীর লালদিঘী ময়দানে গতকাল শুক্রবার বাদ আসর মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে নগরীর চশমা হিলের পারিবারিক কবরস্থানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর লাশ সমাহিত করা হয়। এর আগে নগরীর দারুল ফজল মার্কেটস্থ নগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ।
এ সময় চোখের জলে কফিনে ফুলের তোড়া দিয়ে প্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বিদায় জানান নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চৌধুরী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সমপাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপিসহ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জানাজায় অংশ নেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজায় ঐতিহাসিক লালদিঘীর মাঠ ছেড়ে মানুষের ঢল সড়কেও চলে আসে। স্মরণকালের বৃহত্তম এই জানাজা শেষে লালদিঘী মাঠে কান্নায় ঢলে পড়েন শত শত নেতাকর্মী ও স্বজন। ফলে অনেক কষ্টে মরহুমের কফিন পারিবারিক কবরস্থানে নিতে হয় বলে জানান মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser