,
সংবাদ শিরোনাম :

রাজধানীর পৃথকস্থানে দু’জন খুন হয়েছেন।

সময় সংলাপ ডেস্ক

রাজধানীর পৃথকস্থানে দু’জন খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বৃদ্ধা মিলু গোমেজ (৬৫) অপরজন ৭ বছরের শিশু মো. ছিমরান। গতকাল তেজগাঁও থানাধীন আরজত পাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মিলু গোমেজের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ফিলবার্ড অনিল গোমেজের (৭০) স্ত্রী। অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশু ছিমরানের লাশ উদ্ধার করা হয় তুরাগের উজামপুর ঘাটে ভাসমান একটি নৌকা থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে তার সৎ ভাই বাপ্পি গলা টিপে হত্যা করে।তেজগাঁও থানার এসআই ফারুক হোসেন জানান, অনিল গোমেজ ও মিলু গোমেজ দম্পতি ৩৮, আরজত পাড়ার নিজ বাড়িতে থাকতেন। তিন তলা ভবনের এই বাড়িটির ওপর তলায় তারা থাকতেন। তাদের চার সন্তানের সবাই দেশের বাইরে থাকেন। গতকাল সকালের দিকে তিনি ওই এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন। পরে থানা থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঘরের ভেতর থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া জানান সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির তিন তলায় ড্রইং রুমের দরজার সামনে মৃতদেহটি পড়ে ছিল। বাড়ির বিভিন্ন ফ্লাটে ভাড়াটিয়া থাকলেও বাড়িওয়ালার ফ্লাটে বৃদ্ধ দম্পতি অনিল ও মিলুই থাকতেন। পুলিশ পরিদর্শক সেন্টু মিয়া বলেন, ওই বাড়িতে স্বামী স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকেন না। সকাল বেলা বাড়ির ভাড়াটিয়ারা পানি না পেয়ে বাড়িওয়ালা অনিল গোমেজের ফ্লাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিছুক্ষণ পর ৭০ বছর বয়সের অনিল দরজা খুলে দিলে ভাড়াটিয়ারা বৃদ্ধার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। এর পরেই তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বাড়ির কাজে ব্যবহার করা একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙা বা কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। লাশের শরীরে আঁচড়ের দাগ পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মিলু গোমেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে অনিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে সেন্টু মিয়া বলেন, তবে তার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও পুলিশ জানায়। লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকার উত্তরখানে এক শিশুকে তার সৎভাই গলাটিপে হত্যা করেছে। নিহত মো. ছিমরান (৭) উত্তরখান ইউনিয়নের উজামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুরাগের উজামপুর ঘাটে ভাসমান একটি নৌকার পাটাতন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উত্তরখান থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, নাসিরের প্রথম পক্ষের ছেলে বাপ্পিকে (২২) আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। ছিমরানের মা গার্মেন্ট কর্মী সুফিয়া বেগম ও বাবা নাসিরের সঙ্গে উজামপুরে থাকত। নাসিরের প্রথম পক্ষের সন্তান বাপ্পি মা-বাবার বিচ্ছেদের পর গাজীপুরে থাকলেও বাবার সঙ্গে দেখা করতে মাঝেমধ্যে উজামপুরে আসত। পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে উপ-পরিদর্শক আনোয়ার বলেন, বাপ্পি বৃহস্পতিবার বিকালে ছিমরানকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে উজামপুর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে একটি নৌকার ওপর নিয়ে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে সে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ছিমরানের লাশ মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ছিমরানের মা সুফিয়া উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় বাপ্পিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে এসআই আনোয়ার জানান।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser