,
সংবাদ শিরোনাম :

কিশোরগঞ্জে ২ সাংবাদিক ও বান্দরবানে ৪ পুলিশকে পেটালো ছাত্রলীগ

সময় সংলাপ ডেস্ক

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিজয় শোভাযাত্রার সংবাদ কাভার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এসময় তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করে তারা। ওদিকে শুক্রবার রাতে বান্দরবানে তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় ৪ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ মো. এরশাদ ও সাইফুর রহমান আকাশ নামে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে ।
হোসেনপুরে বিজয় শোভাযাত্রায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র মহড়ার ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এর রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এর ক্যামেরা ভাঙচুর ও ছিনিয়ে নেয় এবং টেলিভিশনটির কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ কনিক ও ক্যামেরা পারসন আলম ফয়সালকে মারপিট করে আধ ঘন্টার মতো আটকে রাখে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে হোসেনপুর পৌরসদরের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ভিডিওচিত্র ধারণের সময় এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ভাঙচুর করা ক্যামেরাটি উদ্ধার হলেও ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফেরত পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক এম এ আজিজ জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টার কিছু আগে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন অপু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাকিব ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পৌরসদরে বিজয় শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া অধিকাংশ নেতাকর্মীদের হাতেই রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোটা ছিল। ছাত্রলীগের এই সশস্ত্র মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর তিনি এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ কনিক ও ক্যামেরা পারসন আলম ফয়সাল উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ছুটে যান। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক অতিক্রম করার আগেই ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য তারা পাশের সোহরাব ভেন্ডার নামের এক ব্যক্তির বহুতল ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। সেখান থেকে সশস্ত্র মহড়ার ছবি ধারণের সময় বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নজরে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সশস্ত্র মহড়ায় অংশ নেয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশ ওই ভবনের ছাদে ওঠে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এর ক্যামেরা পারসন আলম ফয়সালের হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। চ্যানেলটির সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ কনিক ক্যামেরাটিতে ধারণা করা ছবি ডিলিট করার কথা বলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দু’জনকেই লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট করে এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের পর ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তাদেরকে আধ ঘন্টার মতো আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং অন্য সাংবাদিকেরা গিয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন অপু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাকিব ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ক্যামেরাটি কয়েক টুকরায় উদ্ধার হয়। তবে ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফেরত দেননি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের সশস্ত্র মহড়া ও তাণ্ডবে হোসেনপুরে জাতীয় কোন অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শেষ করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রিড়ানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও ছাত্রলীগের তাণ্ডবের মুখে পড়ছে। এছাড়া নিজেদের অন্তর্কোন্দলের কারণে সেখানে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের ক্রমাগত অতিষ্ঠ করে তুলছে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে সাংবাদিক প্রহৃত ও ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন অপু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল সাকিব ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এই ঘটনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এ ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ হলে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোর প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ কনিক জানিয়েছেন, অনুনয়-বিনয় করেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাত থেকে তারা রেহাই পাননি। ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় আধ ঘন্টা তাদের আটকে রেখেছে। ঘটনার পর হোসেনপুর থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান।
হোসেনপুর থানার ওসি মো. আবুল হোসেন জানান, ঘটনার ব্যাপারে তারা খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
এদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বান্দরবানে তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় ৪ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশের আরও দুই সদস্য পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ মো. এরশাদ ও সাইফুর রহমান আকাশ নামে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে শুক্রবার রাতে। শহরের রাজার মাঠ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. হাসান আল মামুন (২১), নাজমুল হাবিব (২০), কনস্টেবল মো. শাহারিয়ার (২০) এবং সাখাওয়াত হোসেন (২২)।
আহত কনস্টেবল নাজমুল হাবিব জানান, রাজার মাঠে কয়েকজন যুবক বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালানোর সময় সেখানে থাকা পুলিশ কনস্টেবলরা বাধা দেয় তাদের। এ নিয়ে ওই যুবকদের সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবলদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনে বিষয়টি মীমাংসাও করে দেয়। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবলরা রাজার মাঠ হতে সরে যাওয়ার সময় কিছু দূরে আসলে প্রায় ৮-১০ জনের যুবক লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এসময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। স্থানীয়রা কয়েকজন জানান, হামলাকারী যুবকরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিল।
এদিকে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে মো. এরশাদ, সাইফুর রহমান আকাশ নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে রাতে খবর পেয়ে সদর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। পুলিশ সদস্যদের মারাত্মকভাবে মারধোর করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি সুশীল সাংবাদিকদের জানান, সামান্য বিষয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। কোন পুলিশের ওপর হামলা বিষয়ে অস্বীকার করেন তিনি। এদিকে, শনিবার সকালে আহত চার পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে যান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser