,
সংবাদ শিরোনাম :

সংসদ প্রাঙ্গণে ছায়েদুল হকের জানাজা, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সময় সংলাপ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে পাঁচবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের জানাজা হয়েছে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে।

রোববার সকালে জানাজার পর এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে।

ছায়েদুল হকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ছায়েদুল হকের। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

রোববার সকালে ছায়েদুল হকের কফিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসার পর তার একমাত্র ছেলে ডা. এসএম রায়হানুল হক রীতি অনুযায়ী সমবেতদের কাছে বাবার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াসহ সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন জানাজায়।

আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন ছায়েদুল হককে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রয়াত এই নেতার কফিনে ফুল দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

পরে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি দলের পক্ষে নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছায়েদুল হকের মত নেতার স্থান পূরণ করা সম্ভব নয়। তার এবং মহিউদ্দিন চৌধুরীর মত নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হল।”

“তার সততা ছিল প্রশ্নাতীত। ছায়েদুল হক এমন নেতা ছিলেন, যার বাড়িতে এখনও টিনের ঘর। ক্ষমতায় থাকার কোনো মোহ বা লোভ ছাড়াই তিনি রাজনীতি করে গেছেন।”

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রাশেদ খান মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে ছায়েদুল হক ছিলেন একজন যোদ্ধা নেতা।

“তিনি পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছিলেন- এতেই জনগণের মধ্যে তার অবস্থান প্রমাণ হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও তিনি সফল ছিলেন। বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম স্থান লাভ করেছে, এর কৃতিত্ব তারই।”

মুহাম্মদ ছায়েদুল হক (১৯৪২-২০১৭)
সংসদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে ছায়েদুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে, যেখান থেকে তিনি পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সেখানে আরেকবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser