,
সংবাদ শিরোনাম :

বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় পতাকা

সময় সংলাপ ডেস্ক

বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় পতাকা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন, রঙিন বেলুন, ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ডবাদ্য নিয়ে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল বিজয় র‌্যালি করেছে বিএনপি। বিজয় র‌্যালি থেকে দলটি শপথ নিয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির। আহ্বান জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের বিজয় র‌্যালিকে দুপুর একটা থেকেই জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন হাতে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হন নয়াপল্টনে। বিজয় র‌্যালিতে অংশগ্রহণের এক পর্যায়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে। বিএনপি আয়োজিত বিজয় র‌্যালিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় রাস্তাগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে শুরু হয়ে র‌্যালির অগ্রভাগ মালিবাগ মোড়ে পৌঁছাতে বেজে যায় পৌনে চারটা। র‌্যালির অগ্রভাগ যখন মালিবাগ মোড়ে তখনও কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নয়াপল্টনে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে র‌্যালির সমাপ্তি ঘোষণা করলেও নেতাকর্মীরা র‌্যালি নিয়ে মালিবাগ ঘুরে শান্তিপূর্ণভাবে নয়াপল্টনে ফিরেন। এ সময় কর্মী-সমর্থকদের কারো হাতে ছিল ধানের শীষ। কারো শরীরে আলপনা। কেউ পরেছেন লাল-সবুজের শাড়ি, কেউ মাথায় বেঁধেছেন জাতীয় পতাকা। অনেকে সেজেছিলেন মুক্তিযোদ্ধার সাজে। বিজয় শোভাযাত্রায় বিএনপির দলীয় পতাকার পাশাপাশি ছিল জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি। মহানগর নেতাকর্মীরা এসেছেন সুসজ্জিত মিনিট্রাকে করে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে। সাতটি ঘোড়ার গাড়ির বহরসহ র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন রাজধানীর বংশাল বিএনপির নেতাকর্মীরা। শ্যামপুর বিএনপির সামনে ছিল বিশাল জাতীয় পতাকা। শাহবাগ থানা বিএনপির মিছিলে মেয়েরা অংশ নিয়েছেন লাল-সবুজ শাড়ি পরে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ব্যানারসহ র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল। রঙ বেরঙের পোশাক পড়ে বিজয় র‌্যালিতে এসেছেন মহিলাদল। নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ ছাড়াও জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মাইকে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’ গান বাজিয়ে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড ইউনিট, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষকদল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতী দল ও ড্যাবসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী র‌্যালিতে অংশ নেন। এদিকে পার্টি অফিসের সামনে থেকে প্রথমে ট্রাকে চেপে র‌্যালিতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব। কিন্তু কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে ট্রাক সামনে এগোতে না পারায় কিছুক্ষণ পর ট্রাক থেকে নেমে যান তিনি। পরে মোটরসাইকেলে করে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছেন। সেখানে ফ্লাইওভারের নিচে একটি ট্রাকে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ও স্লোগান দিয়ে কর্মীদের উৎসাহ দেন। এদিকে বিএনপির বিজয় র‌্যালিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রুখে দাঁড়াই, প্রতিরোধ গড়ে তুলি: ফখরুল
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জনরায় প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অভীষ্ট স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এখনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করে দেয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রের জন্য ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন যে নেত্রী সেই নেত্রী খালেদা জিয়াকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী আজ কারা অন্তরীণ। মির্জা আলমগীর বলেন, আজকের এই দিনে আমরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি। এই দিনে বলতে চাই, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে জনগণের রায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আসুন বর্তমান ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় ঘটিয়ে একটি নিরপক্ষে সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রুখে দাঁড়াই, প্রতিরোধ গড়ে তুলি। বিজয় র‌্যালির মাধ্যমে গণতন্ত্রের দাবিকে আরো বেগবান করি। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হয়রানি করছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা আত্মদান করেছেন, সেসব বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। সেই সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় স্বদেশকে স্বাধীন করতে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন। এরপর বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালিটি। পরে বিকাল ৪টার দিকে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ের সামনে র‌্যালির আনুষ্ঠানিক সমাপনী বক্তব্যে মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের একটাই দাবি, তা হলো গণতন্ত্র ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমরা চাই আগামী প্রজন্ম যাতে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। আমরা সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ চাই, যেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকবে, মানুষ তার মতপ্রকাশ করতে পারবে, সাংবাদিকরা মুক্তভাবে লিখতে পারবে; এই ধরনের মুক্ত বাংলাদেশ চাই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে একদলীয় শাসন কায়েম করতে প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশকে একটি কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। তাই গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে মুক্ত করতে এ কারাগার ভাঙতে হবে। তারা আমাদের পদদলিত করতে চায়। দৃঢ়তার সঙ্গে একটি কথা উচ্চারণ করছি, বাংলাদেশের মানুষকে পদদলিত করে দাবিয়ে রাখা যাবে না। এদেশের মানুষ অতীতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, এবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। এ জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ‘জনরায়’ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিজয় র‌্যালি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো বাধা দিচ্ছেন না। তবে র‌্যালির এরিয়া নয়াপল্টনের পার্টি অফিসের সামনে থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত এতটুকু। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতাকে হত্যা করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা করে জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। এ অবস্থা থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া বিকল্প নেই। আজকে বিজয় দিবসে সেই শপথ নিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমদ আযম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব- উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, নুরী আরা সাফা, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিমউদ্দিন আলম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ আহসানসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেন।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser