,
সংবাদ শিরোনাম :

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

সময় সংলাপ ডেস্ক

নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দুদকের তৃতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল দুদকের কাছে এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। একই চিঠিতে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানান। তবে কমিশন
তার আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এর আগে গত ৪ঠা ডিসেম্বর তাকে প্রথমবারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সেদিন তিনি দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। এখনো তা প্রমাণিত নয়। এ ছাড়া দুদক কর্মকর্তারা যা জানতে চেয়েছেন, তার উত্তর তিনি দিয়েছেন। আবারো ডাকা হলে তিনি সহযোগিতা করবেন। তিনি আরো বলেন, নিজেকে আমি দোষী মনে করি না। তদন্ত চলা অবস্থায় দুদক যে অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। প্রয়োজনবোধে দুদককে আরো সহযোগিতা করবো। একইভাবে তাকে ৭ই ডিসেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল প্রায় ৫টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি টিম বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের জন্য রাজধানীর তিনটি থানায় করা ৫৬টি মামলায় আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুদকের নিজস্ব চিকিৎসক তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়ার পর পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকাল ৫টার দিকে দুদক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সাংবাদিকরা এসময় নানা প্রশ্ন করলে তিনি মুখ খোলেননি। তখন তাকে অনেকটাই বিমর্ষ দেখা যায়। মাথা নিচু করে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠে চলে যান।
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে গত ২২শে নভেম্বর থেকে চলা জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চুর দুই মেয়াদে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ১০ সদস্যকেও ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তারা হলেন- ব্যাংকের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার, একেএম রেজাউর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম ও আনিস আহমেদ। তাদেরকে আলাদা চিঠি দিয়ে দুদকে তলব করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এখন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার চার্জশিট আদালতে পেশ করা হবে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণদানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। এরপর দুদক বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser