,
সংবাদ শিরোনাম :

টানা জয়ে অ্যাশেজ অস্ট্রেলিয়ার,,,বিস্তারিত বিবরণ

সময় সংলাপ ডেস্ক

অজিদের দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ে পাঠাতে ম্যাচের শেষ দিনে কমপক্ষে ১২৭ রানের দরকার ছিল ইংলিশদের। তবে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডের বিদায়ী ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানেই হার দেখলো সফরকারী ইংল্যান্ড। এতে লজ্জা বাড়লো ইংলিশদের। এবারের পার্থ টেস্টে ইনিংস ও ৪১ রানে জয় দেখলো অস্ট্রেলিয়া। আর ৩-০তে এগিয়ে সিরিজও নিশ্চিত করলো অজিরা। অ্যাশেজ লড়াইয়ের শুরুর তিন ম্যাচেই সিরিজ নিষ্পত্তি হলো এ নিয়ে ১০ বার। এর ৯ বারই লজ্জাটা ইংল্যান্ডের। আর সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচের লড়াইয়ে শুরুর তিন ম্যাচে নিষ্পত্তির ১৯তম ঘটনা এটি। অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের এমন একমাত্র সিরিজ জয়টিও দীর্ঘ ৮৯ বছরের পুরনো ঘটনা। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজের শুরুর তিন ম্যাচে জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। পার্থ টেস্টের শেষ দিনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বৃষ্টি। ম্যাচের পঞ্চম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয় তিন ঘণ্টা দেরিতে। আগের দিন ১৩৪/৪ সংগ্রহ নিয়ে খেলা শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। আর সিরিজে টিকে থাকতে গতকাল সারাদিন ক্রিজ আকড়ে পড়ে থাকার দরকার ছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। এজন্য তাদের সামনে ছিল ৭০ ওভার। তবে এর অর্ধেকটা মোকাবিলা শেষে অবশিষ্ট ছয় উইকেট খোয়ায় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বল হাতে আগের দিন দুই উইকেট নেন পেসার জশ হ্যাজলউড। আর গতকাল তিন শিকারে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয় তার। আর ওয়াকা গ্রাউন্ডের ফাটল ধরা পিচে গতকাল হ্যাজলউডও দেখান এক আশ্চর্য ডেলিভারি। বাঁ-হাতি ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানের বিপক্ষে হ্যাজলউডের এক ডেলিভারিতে লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বিরাট বাঁক খেয়ে বল যায় প্রথম স্লিপে। প্রথম ইনিংসে পঞ্চম উইকেটে ২২৭ রানের জুটি গড়েন মালান ও জনি বেয়ারস্টো। তবে গতকাল দিনের দ্বিতীয় ওভারে বিচ্ছিন্ন হয় এ জুটি। ব্যক্তিগত ১৪ রানে উইকেট খোয়ান জনি বেয়ারস্টো। প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করেন ডেভিড মালান। বেয়ারস্টো করেন ১১৯ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে মালানের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। আর চা বিরতির আগেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। মালান ও মঈন আলী জুটিতে মোকাবিলা করেন সর্বাধিক ১৫.২ ওভার। ১৮ ওভারের স্পেলে ৪৮ রানে পাঁচ উইকেট নেন হ্যাজলউড। অ্যাশেজে এটি তার প্রথমবার পাঁচ উইকেট শিকার। সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজে জয় দেখছিল ইংল্যান্ড। এবার তা পুনরুদ্ধাবর করলো অজিরা। আর মলিন নৈপুণ্য নিয়ে চলতি সিরিজে ইংলিশরা রয়েছে বড় লজ্জার মুখে। অ্যাশেজে ২০১৩-১৪ ও ২০০৬-০৭ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫-০তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছিল ইংলশিরা। পার্থ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। মালান-জনির জোড়া সেঞ্চুরি প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪০৩ রান। জবাবে ৬৬২/৯ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। নিজ মাটিতে অ্যাশেজে অস্টেলিয়ার দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। এতে তারা ভাঙে নিজেদের ৭১ বছরের পুরনো রেকর্ড। সিডনিতে ১৯৪৬ এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ পৌঁছে ৬৫৯ রানে। এবার পার্থে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ২৩৯ ও মিচেল মার্শ খেলেন ১৮১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে ৩০১ রানের জুটি গড়েন মার্শ-স্মিথ।
৮৭ বছরের লজ্জা ইংল্যান্ডের
অ্যাওয়ে টেস্টে এটি ইংল্যান্ডে টানা সপ্তম হার। টেস্টে ইংল্যান্ডের এমন ভোগান্তির ঘটনা দেখা গিয়েছিল ইতিহাসে একবার মাত্র। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ ভারতে তিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন শ্রীলঙ্কা সফরে এক টেস্টে হার দেখে ইংলিশরা। ২০১৬’র জানুয়ারি থেকে অ্যাওয়ে ১৩ টেস্টে ৯ হারের বিপরীতে ইংল্যান্ড জয় দেখেছে মাত্রই দুইবার। অ্যাওয়ে টেস্টে এ সময় বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া হারজিতের এমন মলিন রেকর্ড নেই কারো। ২০১৭তে সাত অ্যাওয়ে টেস্টের ৬টিতে (নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা) হার দেখে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা অষ্টম হার দেখলো ইংল্যান্ড। কোনো এক দেশের মাটিতে তাদের টানা হারের ৮৭ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করলো ইংলিশরা। এর আগে ১৯২০ থেকে ১৯২৫ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা আট টেস্টে হার দেখে ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: ইংল্যান্ড, ব্যাটিং
ইংল্যান্ড: ৪০৩ ও ২১৮
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৬৬২/৯ ডি.
ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৪১ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: স্টিভেন স্মিথ


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser