,
সংবাদ শিরোনাম :

টান টান উত্তেজনার ভোট উৎসবের অপেক্ষায় রংপুর

সময় সংলাপ ডেস্ক

টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। গতকাল সোমবার তীব্র শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপার প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের খণ্ড খণ্ড ভাগ করে ২০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩৩ ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তারা আশপাশ জেলা থেকে আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকদের নগরীতে জড়ো করেছেন। ৭ মেয়র, ২১১ কাউন্সিলর ও ৬৫ সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থনে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা হাজার হাজার সমর্থকদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠে রংপুর নগরী। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে নগরীর অলিগলিতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সমানতালে চলছে কান ঝালাপালা করা মাইকিং।প্রার্থীরা শেষবারের মতো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে হাত ধরে দোয়া চাইছেন। বলছেন, একবার সুযোগ দিয়ে দেখেন আপনাদের জন্য কি করতে পারি। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিসহ প্রচারণার কৌশল কোনোটাই তারা বাদ রাখেননি। প্রার্থীদের সমর্থনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রচারণায় নেমেছে নেতাকর্মী-সমর্থকরা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সিটি নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল দলীয় প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর পক্ষে ভোট চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে পথসভা করে দলীয় প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার পক্ষে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। আর ভোট দিতে নির্বাচনের তিন আগেই রংপুরে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব। আর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার শতভাগ আন্তরিক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। এদিকে গতকাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন বাসদ ও সিপিবিসহ পাঁচদলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস মই, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা- হাতপাখা, এনপিপির প্রার্থী সেলিম আকতার- আম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ- হাতি প্রতীকের নির্বাচনী গণসংযোগ করেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার আন্তরিক
গতকাল আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জাপা-বিএনপির ডজন ডজন নেতা রংপুরে এসেছে। আমাদের দল থেকে সেরকম নেতা আসেনি। কারণ, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আগামী নির্বাচনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখাতে চান। ইতিমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই প্রথম মার্কার নির্বাচনে রংপুরবাসীর কাছে প্রত্যাশা দেশ তথা রংপুরের উন্নয়নে চিন্তা মাথায় রেখে সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে জয়ের পূর্বাভাস জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি বিপিএলে যেভাবে রংপুর রাইডার্স জয়ী হয়েছে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে বিজয়ের মাসে রংপুরে আওয়ামী লীগের নৌকা জয়লাভ করবে। সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, আমরা রুলিং পার্টি। রংপুরে এই নির্বাচনকে অতি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই, রংপুরের জনগণ সৌভাগ্যবান। কারণ আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই এলাকার পুত্রবধূ। আবার আগামীতেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এ জেলারই আপনাদের সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রীর রংপুরের প্রতি আলাদা টান থাকার কারণে রংপুরকে বিভাগ ঘোষণা করে সিটি করপোরেশন উপহার দিয়েছেন। উন্নয়নের জন্য তিস্তা সেতু নির্মাণ, ফোর লেন রাস্তা, সৈয়দপুর বিমানবন্দর চালু করেছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার প্রস্তাবনাও রয়েছে। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তারা মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। যদি তাই হয় তাহলে আপনারা নির্বাচনে এলেন কেন। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কাও করেন আবার নির্বাচনেও আসেন। এটা কোন ধরনের রাজনীতি। এর আগে কুমিল্লা সিটিতে তারা একই অভিযোগ করে বিজয়ী হয়ে আর কোনো কথা বললেন না। জিতলে ভালো, না জিতলেই ভোট চুরির অভিযোগ। বিএনপির রাজনীতি স্টান্ডবাজির রাজনীতি। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিশ্বে সততার দিক থেকে শেখ হাসিনা তিন নম্বর সৎ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এখন রংপুরবাসী কি এই সততার রায় দেবেন নাকি এর বিপরীতে অবস্থান নেবেন। নৌকার পক্ষে রায় দিয়ে বিশ্ববাসীকে বার্তা দেয়ার জন্য রংপুরের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভোট চুরির আশঙ্কা ফখরুলের
বর্তমান সরকারের অধীনে অতীতেও কোনো নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করি না। তারপরও জনগণের শক্তি নিয়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে রাখতে হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনারা রংপুর সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, যাতে ভোট চুরি করতে না পারে। আপনারা ভোট চুরি করতে দেবেন না, পারলে প্রতিরোধ করবেন। সোমবার দুপুরে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার সমর্থনে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা রংপুর সিটি নির্বাচনে সরকারি দলকে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, আমাদের দিচ্ছে না। আমাদের সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয় না। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই চলেছে। আমরা কখনই মনে করি না এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ একই বিমানে আজ রংপুরে এসেছি। তিনি (এরশাদ) রংপুরের ছাওয়াল বলে দাবি করেন অথচ গত ৩০ বছরে রংপুরের জন্য কিছুই করেননি। এরশাদ সাহেব এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না বলে অনেকবার বলেও ওয়াদা রক্ষা না করে সরকারকে ক্ষমতায় থাকার জন্য ন্যক্কারজনকভাবে সহায়তা করেছেন। এমন ব্যক্তির সঙ্গে বিএনপির কখনই কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও এর ছেলে রংপুরের সমস্যাগুলো আমি বুঝি এবং জানি। রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের জন্য সরকারের পরিবর্তন হবে না তবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণরায় বলে বিবেচিত হবে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার দেশের কোমর ভেঙে দিয়েছে। ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার কথা বলেছে। সেই চাল এখন ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঘুষ, দুর্নীতি, গুম ও খুনসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই, যা তারা করছে না। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী বাবলাকে পরিচয় করিয়ে হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে ফখরুল বলেন, এই ধানের শীষ বিএনপির প্রতীক, শান্তির প্রতীক। ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরদার করুন। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ। পরে বিএনপি মহাসচিব কাছারি বাজার সিটি বাজার পায়রা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
বিপুল ভোটে জিতবে জাতীয় পার্টি
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার ব্যাপারে কোনো শঙ্কা আছে বলে মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেছেন, তার দলের নেতাকর্মীরা পুনরুজ্জীবিত। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং তার প্রার্থী মোস্তফা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। এরশাদ সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে রংপুর আসেন। পরে নগরীর দর্শনা এলাকায় নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য রংপুরে এসেছেন তিনি। ২১শে ডিসেম্বর ভোট দিয়ে ২২শে ডিসেম্বর ঢাকায় চলে যাবেন। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ। নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানো ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, আমার মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অসম্ভব জনপ্রিয়। আমার বিশ্বাস সে বিজয়ী হবে। তবে বিএনপির বিভিন্ন সমালোচনার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি। জাপা প্রার্থী মোস্তফা দলীয় প্রতীক লাঙ্গলের কারণে জয়ী হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোস্তফার জনপ্রিয়তা আছে। এ ছাড়া দলের প্রতীক লাঙ্গলও নির্বাচনে জয়ী হতে কাজে লাগবে বলে মনে করি। এর আগে এরশাদ ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে পল্লী নিবাসে এসে পৌঁছলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টি কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, রংপুরের মাটি এরশাদের ঘাঁটি। এখানে এরশাদের এবং লাঙ্গলের অসম্ভব জনপ্রিয়তা রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যদি কোনোরকম ষড়যন্ত্র করা হয় তাহলে জাপা তার সমুচিত দাঁতাভাঙ্গা জবাব দেবে। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা ও প্রতিহত করার ক্ষমতা জাতীয় পার্টি রাখে। এদিকে তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিতে গত রোববার রাতে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ, যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল হাসান শাহজাদা, ছাত্রসমাজের সভাপতি সৈয়দ ইফতেখার হাসান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরুসহ অন্য নেতারা রংপুরে অবস্থান করছেন।


প্রতিদিন সব ধরনের খবর জানতে ও মজার মজার ভিডিও দেখতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক কমেন্ট শেয়ার করে এক্টিভ থাকুন -বাংলাদেশ অনলাইন, পত্রিকা, সময় সংলাপ ডট কম,আমাদের ফেইসবুক পেজ লাইক দিতে নিচে ফেইসবুক লাইক বটন এ ক্লিক করুন ,অনেক ধন্যবাদ আবার আসবেন

sponser